Summary
ক্রিকেট একটি আন্তর্জাতিক খেলা, যার উৎপত্তি ইংল্যান্ডে। বাংলাদেশে তা এখন বেশ জনপ্রিয়, শহর ও গ্রামের প্রতিটি স্থানে খেলা হয়।
খেলার সংক্ষিপ্ত নিয়মাবলি:
- দল গঠন: দেশে ১৪ জন ও বিদেশে ১৫ জন খেলোয়াড় থাকে, খেলার জন্য ১১ জন মাঠে নামেন। টসের মাধ্যমে বোলিং বা ব্যাটিং নির্ধারণ হয়।
- পিচ: ক্রিকেট পিচ ২২ গজ দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থ হয়।
- আম্পায়ার: খেলা পরিচালনার জন্য দুজন আম্পায়ার ও একজন স্কোরার থাকে।
- উইকেট: পিচের দুই প্রান্তে তিনটি করে স্টাম্প দিয়ে দুইটি উইকেট তৈরি হয়।
- বোলিং ও পপিং ক্রিজ: উইকেটের সাথে ৮ ফুট ৮ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের বোলিং ক্রিজ, এবং তার সামনে ৪ ফুট দৈর্ঘ্যের পপিং ক্রিজ থাকে।
- ম্যাচের ধরন:
- ক) টেস্ট ম্যাচ - দুই ইনিংসে খেলা হয়।
- খ) ওয়ান ডে ম্যাচ - ৫০ ওভার খেলা হয়।
- গ) টি টোয়েন্টি ম্যাচ - ২০ ওভার করে খেলা হয়।
- ওভার: ৬ বলে একটি ওভার পূর্ণ হয়।
- বাউন্ডারি: মাঠের সীমানা পার হলে ৪ রান (বাউন্ডারি) এবং সরাসরি বাইরে গেলে ৬ রান (ওভার বাউন্ডারি) হয়।
- নো বল: নির্ধারিত রেখা অতিক্রম করলে নো বল হয়।
- ওয়াইড বল: ব্যাটসম্যানের নাগালের বাইরে গেলে ওয়াইড বল হয়।
- ব্যাটসম্যান আউট:
- ক) বোল্ড আউট
- খ) টাইমড আউট
- গ) হিট উইকেট
- ঘ) রান আউট
- ঙ) ক্যাচ আউট
- চ) স্টাম্পড আউট
- ছ) এল.বি.ডব্লিউ
একটি কার্যক্রমের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের আউট হওয়ার কারণ ও ক্রিকেটের নিয়মাবলি উপস্থাপন করতে হবে।
ক্রিকেট একটি আন্তর্জাতিক খেলা। এ খেলার উৎপত্তি ইংল্যান্ডে। বর্তমানে বাংলাদেশেও খেলাটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। শহর ছাড়া গ্রামে-গঞ্জেও এখন ক্রিকেট খেলা হয়ে থাকে।
খেলার সংক্ষিপ্ত নিয়মাবলি
১) খেলোয়াড়- দেশে ১৪জন এবং বিদেশে ১৫জন খেলোয়াড়ের সমন্বয়ে একটি দল গঠিত হয়। খেলতে নামে ১১জন। টসের মাধ্যমে বোলিং বা ব্যাটিং কোন দল করবে তা নির্ধারিত হয়।
২) পিচ- ক্রিকেট খেলার পিচ দৈর্ঘ্যে ২২গজ এবং প্রস্থে ১০ফুট হয়ে থাকে।
৩) আম্পায়ার- দুজন আম্পায়ার খেলা পরিচালনা করেন এবং একজন স্কোরার থাকেন।
৪) উইকেট- পিচের দুই প্রান্তে তিনটি করে স্টাম্প দিয়ে দুটি উইকেট তৈরি করা হয়। উইকেটের চওড়া ৯ ইঞ্চি। উইকেটের উপর দুটি বেল থাকে। বেলসহ মাটি থেকে উইকেটের উচ্চতা ২ ফুট ৪.৫ ইঞ্চি।
৫) বোলিং ও পপিং ক্রিজ- উইকেটের সাথে একই রেখায় বোলিং ক্রিজের দৈর্ঘ্য হবে ৮ ফুট ৮ ইঞ্চি। বোলিং ক্রিজের সামনে সমান্তরালভাবে ৪ ফুট যে দাগ কাটা হয় সেটিই পপিং ক্রিজ।
৬) ম্যাচ: ক্রিকেট খেলায় সাধারণত তিন ধরনের ম্যাচ হয়ে থাকে।
ক) টেস্ট ম্যাচ
খ) ওয়ান ডে ম্যাচ
গ) টি টোয়েন্টি ম্যাচ
ক. টেস্ট ম্যাচ: টেস্ট ম্যাচ দুই ইনিংসে খেলা হয়ে থাকে। প্রতিদিনই পর্যায়ক্রমে ব্যাটিং ও বোলিং করতে হয়। তবে সর্বোচ্চ ৯০ ওভার পর্যন্ত একদিনে খেলতে হয়।
খ. ওয়ান ডে ম্যাচ: এ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৫০-৫০ অর্থাৎ ১০০ ওভার খেলা হয়। প্রত্যেক দল একবার ব্যাট ও বল করে।
গ) টি টোয়েন্টি ম্যাচ : এই ম্যাচে প্রত্যেক দল ২০ ওভার করে ব্যাট ও বল করে।
৭) ওভার: ৬টি শুদ্ধ বলে একটি ওভার হয়। একজন বোলার ৬টি বল করে। ওভার শেষ হলে অন্য বোলার উইকেটের প্রান্ত বদল করে বল করবে।

৮) বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারি : ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে আসা বল মাঠের সীমানা পার হলেই চার রান হয়, এটাকে বাউন্ডারি বলে। বল শূন্যে দিয়ে সরাসরি সীমানার বাইরে পড়লে ছয় রান হয়, এটাকে ওভার বাউন্ডারি বলে।
৯) নো বল: বোলার বলটি ছুড়ে মারলে, সামনের পা সম্পূর্ণরূপে পপিং ক্রিজের রেখা অতিক্রম করলে, পেছনের পা রিটার্ন ক্রিজের মধ্যে না থাকলে নো বল হয়।
১০) ওয়াইড বল: আম্পায়ারের মতে বল যদি ব্যাটসম্যানের নাগালের বাইরে দিয়ে যায় তাহলে ওয়াইড বল হয়।
১১) ব্যাটসম্যান আউট: বিভিন্ন কারণে ক্রিকেট খেলায় একজন ব্যাটসম্যান আউট হয়।
ক) বোল্ড আউট- বোলিং করা বল উইকেটে লেগে বেল পড়ে গেলে বোল্ড আউট হয়।
খ) টাইমড আউট- নতুন ব্যাটসম্যান মাঠে প্রবেশকালে তিন মিনিটের বেশি সময় নিলে টাইমড আউট হয়।
গ) হিট উইকেট- বল খেলতে গিয়ে যদি ব্যাট বা শরীরের কোনো অংশের স্পর্শ লেগে উইকেট ভেঙে যায়।
ঘ) রান আউট- রান নেওয়ার সময় পপিং ক্রিজে পৌঁছার আগেই ফিল্ডার কর্তৃক ছুড়ে দেওয়া বল উইকেটে লাগলে রান আউট হয়।
ঙ) ক্যাচ আউট- ব্যাট দিয়ে মারা বল মাটি স্পর্শ করার আগেই ফিল্ডার ধরে ফেললে ক্যাচ আউট হয়।
চ) স্টাম্পড আউট- খেলার সময় ব্যাটসম্যান যদি পপিং ক্রিজের বাইরে চলে যায় তখন উইকেটরক্ষক বল ধরে বেল ফেলে দিলে স্টাম্পড আউট হয়।
ছ) এল.বি.ডব্লিউ- যে বল উইকেটে লাগার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে সেই বলকে ব্যাটসম্যান পা দিয়ে আটকালে এল.বি.ডব্লিউ (লেগ বিফোর উইকেট) আউট হয়।
| কাজ-১: কী কী কারণে ব্যাটসম্যান আউট হয় তা বর্ণনা কর। কাজ-২: ক্রিকেট খেলার নিয়মাবলি সম্পর্কে প্রত্যেকে একটি করে নিয়ম বোর্ডে গিয়ে উপস্থাপন কর। |